আইএমইআই (IMEI) নাম্বার কি? জানুন এটির কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত।

আমরা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। মোবাইলের একটি জিনিসের নাম সম্পর্কে আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। তা হল আইএমইআই। যার কাজ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এই আইএমইআই নাম্বার থাকে মোবাইলের প্যাকেজিং এর গায়ে, মোবাইলের বিভিন্ন স্টিকার এর সাথে এবং মোবাইলের ব্যাটারী এর ভিতর সার্কিট এর গায়ে। এছাড়াও আপনার যেকোন মোবাইল থেকে *#০৬# চাপলেই বেরিয়ে আসবে আইএমইআই নাম্বার।

শুরুতেই একটা কথা বলে নেওয়া ভাল হবে যে, ফোনের আইএমইআই নাম্বার আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার যেমন আলাদা কারো সাথে মিল নেই এবং সেখানে থাকে আপনার জন্ম সাল বিভাগ, জেলা, থানা এবং এড়িয়া কোড ঠিক তেমনি আইএমইআই নাম্বারে উল্লেখ থাকে আপনার ফোনের মডেল, প্রস্তুতকারী কোম্পানীর তথ্য এবং আপনার ফোনের সিরিয়াল। যা আর অন্য কোন ফোনে থাকে না।
এজন্য ফোন কিনার সাথেই আপনার উচিৎ আইএমইআই নাম্বারটি কোথাও নোট করে রাখা। এতে করে আপনার ফোনটি হারিয়ে গেলে এই নাম্বারটির মাধ্যমে খুঁজে পেতে পারেন আপনার ফোনটি।

আইএমইআই নাম্বার কি?

আইএমইআই (IMEI) এর পূর্ণরুপ হলো International Mobile Equipment Identity । সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে যে, প্রতিটি আএমইআই নাম্বার একটি থেকে অন্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে থাকে বলে এই নাম্বারটি নোট করে রাখা কতটা জরুরী। পরবর্তীতে এটি আপনার মেবাইল সনাক্ত করতে কাজে লাগবে।
মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো আপনার ফোনের আইএমইআই এর মাধ্যমে আপনার ফোনের সকল তথ্য সংরক্ষন করে থাকে। ধরুন আপনি আপনার ফোন ওয়ারেন্টিতে দিছেন এবং তারা আপনার আইএমইআই চেক করে দেখবে ফোনটি আগে ওয়ারেন্টিতে দিছেন কি না, কত বছর হয়েছে ফোনটি কিনার, কোন দেশ থেকে কিনেছেন ইত্যাদি সকল তথ্য পাবে তারা এই আইএমইআই নাম্বারটি ব্যবহার করে।
একটি ফোনের সাধারনত আইএমইআই নাম্বার ১৪ ডিজিটের হয়ে থাকে। তবে ইন্টারন্যাশনাল নিয়ম অনুযায়ী সামনে আরো একটি সংখ্যা থাকে যা মিলে ১৫ ডিজিটের হয়ে থাকে। তবে এখন অনেক ডিভাইসে উক্ত ডিভাইস সফটওয়ার সংস্করনের জন্য আর একটি অতিরিক্ত ডিজিট ব্যবহার করা হয় ফলে মোট ১৬ ডিজিট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এসব আইএমইআই কে বলা হয় IMEISV.

আইএমইআই কোড ২০০৪ সাল থেকে AA-BBBBBB-CCCCCC-D এই ফরম্যাটে নির্দেশিত হয়ে আসছে। A আর B সেকশন কে বলা হয়ে থাকে Type Allocation Code বা TAC। TAC অংশ থেকে ফোনটির তৈরীকারক এবং মডেল সম্পর্কে জানা যায়। যেমনঃ
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর TAC 32-930400
গুগল নেক্সাস ৪ বা এলজি E960 এর TAC 35-391805 ইত্যাদি।
সুতরাং ১৫-১৬ ডিজিটের আইএমইআই কোডের TAC হয়ে থাকে ৮ ডিজিটের আর তার মধ্যে ২ ডিজিট ব্যবহৃত হয় ভেরীফাই এর জন্য। তাই সাধারনত মূল TAC হিসেবে বিবেচনা করা হয় ৬ ডিজিট কে।
আবার আইএমইআই কোড এর C সেকশনটি ফোনটির একটি বিশেষ সিরিয়াল বা কোড নির্দেশ করে থাকে। আর D কোড টি হলো সমস্ত আইএমইআই নাম্বারটিকে ভেরীফাই করার নির্দেশক।

আইএমইআই নাম্বার দেখার নিয়মঃ

বিভিন্ন উপায়ে আপনি দেখতে পারেন আপনার ফোনের আইএমইআই। প্রথমত আপনার ফোনের ডায়ালারে লিখুন *#০৬# সাথেই বের হবে আপনার ফোনের আইএমইআই কোড। অথবা দেখুন আপনার ফোনের ব্যাটারী খুলে সার্কিট এর উপর একটি স্টিকারে আপনার ফোনের আইএমইআই কোড এবং ফোনের প্যাকেট বা খামের গয়ে স্টিকার যুক্ত থাকে আইএমইআই কোডটি। আবার এন্ড্রয়েড ফোনের  Settings>About>Phone>Status এ আপনি পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত IMEI নম্বরটি। আবার অ্যাপেল ইউজাররা  Settings>General>About এ গিয়ে IMEI নম্বর দেখতে পারবেন। নাম্বারটি যেখানেই দেখুন না কেনো সাথেসাথেই নোট করে রাখুন।

আইএমইআই কতটা দরকারী

আজকাল অনেক জাল ফোন বের হয়েছে। এছাড়াও কপি, মাষ্টার কপি বা সুপার কপি। অধিকাংশ ফোন গুলোতে আইএমইআই থাকে না। আবার অনেক নকল ফোন বা জাল ফোনে কারাপ্টেড আইএমইআই থাকে। তাই আপনার ফোন আসল নাকি নকল তা জানকে আপনার ফোনের আইএমইআই কোডটি Imei.info এর মত অনলাইন আইএমইআই কোড চেকারে চেক করে কিনুন। নকল ফোন কিনে প্রতারিত হবেন না।

এছাড়াও আপনার ফোনটি হাড়িয়ে গেলে এর পুলিশের কাছে এর কমপ্লেইন করাতে গেলেও আপনার এই আইএমইআই কোডটির প্রয়োজন পড়বে। তাই এটিকে অবহেলা না করে সুন্দর ও নিরাপদ যায়গায় এটি সংরক্ষন করুন।

Facebook Comments

পোষ্টটি আপনার কত ভালো লেগেছে?

তারকা চিহ্নে ক্লিক করুন

রেটিং গড়ঃ / 5. ভোট সংখ্যাঃ

As you found this post useful...

Follow us on social media!

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

আরও দেখুন