জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মূহূর্ত!

জুমার দিন পবিত্র দিন। শুক্রবারকে জুমার দিন বলা হয়। এই দিনকে আল্লাহ বেশ কিছু ফজিলত পূর্ণ করে দেন। এই পবিত্র জুমার দিনের অন্যতম একটি ফজিলত আছে, তা হচ্ছে এই দিনে এমন একটি বিশেষ মূহুর্ত আছে যখন আল্লাহর প্রিয় বান্দা তার কাছে যা চায় আল্লাহ তাকে তাই দেন। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এই বিশেষ দিন সম্পর্কে বলেন-

فِيهِ سَاعَةٌ، لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى شَيْئًا، إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ

‘এই দিনে একটা সময় আছে যে সময়ে, মুসলিম বান্দা একাগ্রচিত্ত্ব হয়ে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখে, আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে কিছু চাইলে,তিনি তাকে তাই দিয়ে দেন। নবী (সঃ) কথাটি বলার পরমূহুর্তে, হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বুঝিয়েছেন, দোয়া কবুলের সেই সময়টা খুব বেশী দীর্ঘ সময় নয়। অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদী।’ (আবু হুরায়রা (রা.)…. বুখারি)

 হাদীসটির ব্যাপারে একটা কৌতুহুল থেকেই যায়। তা হচ্ছে যে, সময়টা কথন? এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে অনেক উৎসাহ দেখা দিয়েছিল। অনেক সাহাবী এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে। এবং এ সম্পর্কে কয়েকটি সময় হাদীসে উল্লেখ্য আছে। তা হচ্ছে-

প্রথম সময়ঃ

ইবনে উমার (র.) এর সাথে আবু বুরদার এর দেখা হলে তার কাছে আবু বুরদার জানতে চাইলো-
-আপনার বাবা (আবু মুসা আশআরী (রা.)- কে জুমার বিশেষ মূহুর্ত সম্পর্কে কিছু বলতে  শুনেছেন আপনি?
– জ্বি। বাবা বলেছেন আমি আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর কাছে বলতে শুনেছি-

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلا

সে সময়টা হলো, জুমার দিনে ইমাম যখন মিম্বারে বসার পর থেকে সালাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম…৮৫৩)

দ্বিতীয় সময়ঃ

জুমার দিনের শেষ সময়।

يَوْمُ الجُمُعة ثِنْتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لاَ يُوجَد فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ الله شَيْئاً إِلاَّ آتَاهُ إِيَّاهُ ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ العَصْر

জুমার দিনের ভাগ বারো ঘণ্টা। (এর মধ্যে এমন বিশেষ এক মুহূর্ত আছে) তার মধ্যে কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর নিকট কোন দোয়া করলে,  মহান আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেই নেন। তোমরা সে বিশেষ মুহূর্তকে, আসরের পরে (মাগরিবের আগে) শেষ সময়টাতে অনুসন্ধান কর (জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.), আবু দাউদ ১০৪৮)

আবার অন্য একটি হাদিসে সময় টি আসর এর ওয়াক্ত থেকে শুরু করে সূর্য ডুবার সময় কে নির্দেশ করা হয়েছে। তবে মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই বিশেষ মুহুর্তে দোয়ারত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ।

Facebook Comments

পোষ্টটি আপনার কত ভালো লেগেছে?

তারকা চিহ্নে ক্লিক করুন

রেটিং গড়ঃ / 5. ভোট সংখ্যাঃ

As you found this post useful...

Follow us on social media!

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

আরও দেখুন